নিম্নের বিষয়টি শুনতে পারবেন।
ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
পড়ার চেয়ে যারা শুনতে পছন্দ করেন, তাঁরা এখানে বিষয়টি শুনতে পারবেন।
অনলাইন বা সফট কপি পড়তে অভ্যস্ত নন, তাঁরা ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
উন্নত দেশের প্রধান চালিকাশক্তি দক্ষ নাগরিক, নাগরিকদের আর্থ
ও সামাজিক উন্নয়ন হলে কেবল একটি দেশ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হয়। অর্থনীতিবিদদের
মতে, যেকোন দেশের জিডিপিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসার ভূমিকা
অপরিসীম। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭.২ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশ পর্যন্ত
অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা রয়েছে তবে বাংলাদেশে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ। তাই এ ধরণের
ক্ষুদ্র, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা যেন ঝরে পড়া শিশুর মতো ব্যবসায়ী না হয়- সেটি
নিশ্চিত করতে সুদবিহীন ঋণ দিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত তাদের। বিচ্ছিন্নভাবে
নিয়োজিত থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রাখা অবদান গাণিতিক কিংবা পরিসংখ্যানগত
সমষ্টিতে আসে না। আবার তাদের জন্য কোন আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়াও সম্ভব হয় না
রাষ্ট্রীয়ভাবে। এজন্য হকার পেশা হতে পারে তাৎক্ষণাৎ কোনো আয়ের মাধ্যম। এত বড়
জনশক্তিকে অনুন্নত রেখে বা মূলধারা পেশার সাথে সংযুক্ত না করে কোনো দেশ উন্নত দেশে
রূপান্তর হতে পারে না।
সাবেক মেয়র আনিসুল হক স্যারকে খুব মনে পড়ছে দেশরত্ন
শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন, দক্ষ ও যোগ্য কর্মী ছিলেন। ঢাকাবাসী সহ
গণমানুষের আস্থা ও ভরসা জায়গা হয়ে উঠেছিলেন, স্বল্প সময়ে মানুষের প্রাণের
কেন্দ্রেবিন্দুতে পৌঁছেছেন। তিনি একমাত্র মেয়র যার মৃত্যুবার্ষিকীতে মিডিয়ার
উদ্দগ্যে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয়। তাঁর শূন্যতা ঢাকাবাসী আজও অনুভব করে, গভীর
শ্রদ্ধাভরে তাঁকে স্মরণ করে। তিনি সবসময় হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করতেন, হকারদের
গুরুত্ব ধারণ করে সঠিক পুনর্বাস করতে চেয়েছিলেন। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তিনি
নিম্ন আয়ের মানুষ ও হকারদের প্রতি তার ভালোবাসা, মায়া-মমতার অনন্য দৃষ্টান্ত
রেখে গেছেন। তিনি হকারদের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নির্দিষ্ট টেবিলের সাইজ নির্ধারণ
করেছিলেন, ডিজাইনটিতে সে সাইজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে তাছাড়াও
তার বিভিন্ন ইচ্ছা-কাঙ্খার প্রতিফলন ঘটনা হয়েছে।
দেশে যতদিন নিম্নবিত্ত বা
মধ্যবিত্ত থাকবে ততদিন হকার থাকবে, স্বল্প
মূল্যের পণ্যের চাহিদা থাকাবে তেমনি স্বল্প পুঁজিতে অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভের ব্যবসা থাকবে। হকারদের পলিসি হলো, জনকীর্ণ স্থানে বা পথচারীর সম্মুখে আকর্ষণীয় পণ্যের পসরা সাজিয়ে
শ্রুতি মধুর কথা বলে পণ্য বিক্রয় করা বা লোভনীয় সময়োপযোগী খাদ্য নিয়ে মুখরোচক
কথা বলে মনের ক্ষুধা তৈরি করা। বাইছা
লন—তিন শ, দেইখা লন— তিন
শ, আর পাইবেন
না— তিন শ, ফুরাইয়া
গেল—তিন শ। সড়ক ও ফুটপাতের হকারা ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণে উচ্চ স্বরের এমন হাঁকা-ডাক
সবারই পরিচিত।
কাজেই, জনকীর্ণ স্থানের সড়ক বা সড়কের নিকটস্থ স্থান ব্যতীত হকার ব্যবসা কার্যকর না।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হকারদের জন্য বহুতল
ভবন তৈরি করা হলেও হকাররা অব্যবস্থাপনার অভিযোগে স্বল্প মূল্যে পণ্য সেবা দিতে
ব্যর্থ হয়েছে। যারা দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের ব্যবসা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
তাদের দাবি, কংক্রিটের আচ্ছাদনে বা বহুতল ভবনের বেড়াজালে জালে স্বল্প মূল্যে হকার
ব্যবসা করা যায় না বা পণ্য ছাড়তে পারেন না তেমনি কাস্টমাররা আগ্রহ হারায়। কথার
যুক্তিও
মিলানো যায়, নিম্নবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে কংক্রিটের দোকানে, তারা
পণ্যের
দামে স্বস্তি অনুভব করেন না।
এজন্য স্বল্প মূল্যের পণ্যের চাহিদা থাকায়
উচ্ছেদিত স্থান কর্তৃক প্রভাবশালীদের স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে অন্য দিনমজুর, শ্রমিক
বা বেকার দ্বারা পুনরায় দখল হয়ে যায়। তার ব্যতিক্রম দেখা
যায় টিকাটুলি রাজধানী হকার মার্কেট, বনানী হকার মার্কেট ইত্যাদি। টিনের আচ্ছাদিত
দোকানে কাস্টমারের তৃপ্তি। অব্যবস্থাপনার মধ্যেও অধিকাংশ হকার স্বল্পমূল্যে পণ্য
ছাড়তে পারেন, তেমনি ক্রেতারাও ফুটপাতের বিপনী বিতান অগ্রাহ্য করছেন।
হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ফেয়ারনেস অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। সড়কের কোনো হকার পুনর্বাসনের বঞ্চিত হলে হকার
পুনর্বাসন ব্যবস্থা বা সুফল ভেস্তে যেতে পারে। এজন্য সড়কে যে সকল স্থানে হকার বসে সে স্থানগুলো
বিভিন্ন সোলাটে ভাগ করা হবে। তারপর সোলাট অনুযায়ী কয়েক দফায় টিম হকারদের ফুটেজ
সংগ্রহ করবে যেন কোনো প্রকৃত হকার বঞ্চিত না হয়। শারীরিক অসুস্থতা বা নানান কারণে
২-৫ দিন হকার উপস্থিত নাও থাকতে পারে বা তার অল্টারনেটিভ থাকতে পারে এজন্য কয়েক
দফায় ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। রেজিস্ট্রেশনে এরিয়া সিলেক্ট করলে ডাটাবেজের সাথে
ফুটেজ মিলিয়ে শিফট ও টেবিল বরাদ্দ দিতে লটারির জন্য প্রস্তুত করা হবে। ফলে
প্রকৃত হকার পুনর্বাসন হবে।
সড়কের হকার পুনর্বাসনের পর সোলাট খালি থাকলে সেখানে অন্যান্য হকারদের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে
সড়ক ব্যতীত অন্যান্য সড়ক পথচারী বান্ধব হবে।
সড়ক ব্যতীত অন্য
সড়কের হকারদের সিটি কর্পোরেশন বা কর্তৃপক্ষ তাদের মতো ব্যবস্থা নিতে পারে সে
ক্ষেত্রে সড়কের হকারদের পুনর্বাসন
ব্যবস্থা তাদের জন্য একটা মডেল হতে পারে।
যাদের প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসার পুঁজি নেই বা যারা হঠাৎ
করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হয়ে দিশেহারা বা দুর্যোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বস্ব
হারিয়েছেন তারাই হকার ব্যবসা করবেন। হকার ইউনিয়ন দুর্যোগে আক্রান্ত এলাকায়
উদ্বাস্ত বা অসহায় হত দরিদ্রদের হকার রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রচার-প্রচারণার
মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে জীবিকার ব্যবস্থা ও আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে দিতে সাময়িক হকার
ব্যবসায় সংযুক্ত করবেন।
শত শত কোটি টাকার সড়ক এবং লক্ষ লক্ষ পথচারী ভোগান্তি সহ্য
করতে পারে কেবল হতদরিদ্রের জীবন রক্ষা করতে, ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নাগরিককে মূলধারা
অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনতে। পথচারী ত্যাগ স্বীকার বা অধিকার কম্প্রোমাইজ
করছে তার মানে এই নয় যে বছরের পর বছর কিছু সংখ্যক মানুষ এত দামি সড়ক অবরুদ্ধ করে
ও লক্ষ লক্ষ মানুষকে কষ্ট দিয়ে সড়কের ব্যবসাকে পেশা হিসেবে নিবে অর্থাৎ মানুষকে
কষ্ট দেয়া তারা পেশ হিসেবে নিবে।
এজন্য অসহায়দের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন পরিবর্তন ঘটলে অর্থাৎ
দুই বছর ব্যবসা করে তারা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায় যুক্ত হবেন। ফলে যাদের
প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করার সক্ষমতা বা দক্ষতা আছে তারা এই ব্যবসায় আসবে না। হকার ব্যবস্থার মধ্যে সুদবিহীন ঋণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুই
বছর হকার ব্যবসা করার পর মূলধারার অর্থনীতিতে ফেরাতে সুদবিহীন ঋণ প্রদান করা হবে।
হকারদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা
হবে। তবে প্রশিক্ষণের জন্য ভাতা প্রদান করা হবে না।
হকারদের দুই শিফটে ভাগ করা হবে। এক শিফটে ব্যবসা করবেন অন্য
শিফটে দক্ষ নাগরিক হতে নিজেদের পছন্দের কাজে দক্ষতা অর্জন করবেন। বিকালের শিফটে
সাধারণত কিছু কাস্টমারকে বেশি হয় এজন্য সকালের শিফটে অতিরিক্ত আড়াই ঘণ্টা সময়
সংযুক্ত করে সকাল ও বিকাল শিফটের সমতা করা হয়েছে। এই আড়াই ঘণ্টা কিছু কাস্টমারকে
সেবা দিতে পারলে সকাল ও বিকালের আয়ের সমতা ঘটবে। তাছাড়া ফেয়ারনেস বজায় রাখতে
রেজিস্ট্রেশনকৃত হকারদের লটারির মাধ্যমে শিফট প্রদান করা হবে। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের
এর গুরুত্ব অপরিসীম, ফলে অবৈধ লেনদেন ও প্রভাবশালীদের
প্রভাব মুক্ত রেখে প্রকৃত হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে টেবিল বরাদ্দ দেওয়া যাবে। কাজটি
খুব চ্যালেঞ্জিং কারণ অধিকাংশ হকাররা শিক্ষিত না হওয়ায় তাদেরকে ভয়-ভীতি বা উল্টাপাল্টা
বুঝিয়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা বা তাদের থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা প্রভাবশালীদের জন্য
সহজ। তবুও প্রযুক্তির সহতায় ফেয়ারনেসের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, প্রকৃত হকারদের
মূল্যায়ন করা হবে।
দুই শিফটে ব্যবসা আরো বেশি সমতা করতে হকার মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকলে অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
সমসময় পর্যন্ত খোলা রাখার চেষ্টা করবে এজন্য রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার
পরে খোলা রাখা উচিত নয়। এর ফলে কর্মচারীর উপর অত্যান্ত চাপ পড়ে। ক্রেতা-বিক্রেতা
উভয়ের ঘুমের সাইকেলে প্রভাব পড়ে। নতুন কর্মচারীদের সপ্তাহে ৬ দিন ১৫-১৬ ঘন্টা
কাজের ডিউটি করতে হতে পারে। যেমনঃ অধিকাংশ দোকানের কর্মচারীকে গুছিয়ে বাসা থেকে
বের হয়ে সকাল ১০ টায় দোকান খুলতে এবং দোকান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে ১-২ ঘন্টা
পূর্বে বের হতে হয়। গুছিয়ে দোকান বন্ধ করতে অনেক সময় রাত ৮.৩০ টা বেজে যায়।
যানজট ঠেলে বাসায় যেতে অনেকের ১-২ ঘন্টা লাগে আবার পরের দিন ১০ টায় দোকান খুলতে
হয়, প্রতিদিন একজন কর্মচারীকে গড়ে ১২ ঘন্টা ডিউটির কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হয়।
সেক্ষেত্রে রাত ১০টায় দোকান বন্ধ হলে ১৪ ঘন্টা ডিউটি করা লাগে। পেটের দায়ে কাজ
করা কর্মচারী ৮ ঘণ্টার চুক্তিতে নামমাত্র মজুরি পেয়ে সপ্তাহে ৬ দিন ১৪ ঘণ্টা কাজ
করা একজন কর্মচারীর জন্য অত্যন্ত মানবেতর।
নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে হকার থাকলে হকার ইউনিয়ন নির্দিষ্ট
স্থানের কোনো সোলাট ফাঁকা থাকলে হকারকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে ব্যবসার সুযোগ করে
দিবেন। নতুবা হকারকে নির্দিষ্ট প্রসেস ফলো করতে পরামর্শ দিবেন। হকার ব্যবস্থা
চ্যালেঞ্জ করলে হকার ইউনিয়ন টিমকে অবগত করবেন। টিম বা কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা
গ্রহণ করবে, প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তা নিবে।
ভ্রাম্যমান হকারও থাকতে পারবে না। যত্রতত্র হকার থাকায় ফলে
সড়কের দুর্ঘটনার পাশাপাশি ময়লা আবর্জনা দেখা যায়। যার ফলে জলবদ্ধতা ও
দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় যা স্মার্ট ও সুন্দর ঢাকার অন্তরায়। এজন্য বেসাল সড়কে
ভ্রাম্যমান হকার থাকবে না। কারণ সড়কে বাদাম বা ফলের খোসা ও প্যাকেট,
বিড়ি-সিগারেটের খোলপা বা ফিল্টার, পানের পিক, ছোলা-চানাচুর বা চিপসের প্যাকেট,
জুস বা পানির পট সড়কে দুর্ঘটনার পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন করে তোলে। তাছাড়া স্মার্ট
নগর পরিবহনে ভ্রাম্যমান হকার থাকলে যাত্রী ওঠা-নামায় বিব্রত বোধ করবে ফলে গ্রীন ও
বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে প্রাইভেট মোটরযান ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে না
সুতরাং বর্তমান হকারদের টেবিল প্রদানের মাধ্যমে ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করানো হবে
তবে কোনোভাবেই বেসাল সড়কে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে হকার থাকবে না।
আবাসিক এলাকায় ভ্রাম্যমান
হকার ব্যবসায় উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। বাসা বাড়িতে পন্য পৌঁছায় দেওয়ার গুরুত্ব
দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে লক্ষ্যে, মহানুভাব বিত্তশালীদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করে সুদ বিহীন ঋণ প্রদান করা হবে। মহানুভাব বিত্তশালীরা মধুমতি ব্যাংকের নির্দিষ্ট
একাউন্টে টাকা জমা দিবেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই অর্থ হকারদের মধ্যে ঋণ প্রদান করবেন।
বছর শেষে ঐ বছরের মূল্যস্ফীতি সহ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিত্তশালীদের টাকা ফেরত দিবেন। ফলে
বৃত্তশালী টাকার মান কমবে না, গরিব মানুষ উপকৃত হবেন। অর্থাৎ ১ লক্ষ টাকা প্রদান করলে
৬% মূল্যস্ফীতি হলে এক বছর পরে তিনি ১ লক্ষ ৬ হাজার টাকা পেলেও যা পূর্ববর্তী বছরের
১ লক্ষ টাকার সমপরিমাণ। ৪% সার্ভিস চার্জ নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার কার্যক্রম পরিচালনা
করবেন।
সকল হকার অর্থাৎ যারা ২০ বছর ধরে সড়ক দখল করে ব্যবসা করছেন তারাও আগামী দুই বছর নির্দিষ্ট সড়কে হকার ব্যবসা করতে পারবেন। যারা হকার কমিটির সদস্য তারা আগামী তিন বছর হকার ব্যবসা করতে পারবেন।
হকারদের মধ্য থেকে প্রতি তিন বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে
হকার ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হতে হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জন্য
প্রধান দুইটি হকার ইউনিয়ন থাকতে হবে। প্রতিটি নির্দিষ্ট স্থানে হকার ইউনিয়ন
থাকতে হবে। তবে পণ্যের ধরন অনুযায়ী অঙ্গ সংগঠন থাকতে পারে। সাধারণ হকাররা সরাসরি
স্থানীয় হকারদের নির্বাচিত করবে, নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের মধ্য
থেকে ভোটের মাধ্যমে প্রধান হকার ইউনিয়ন গঠন করবে।
ডিজাইনের আওতায় হকারদের উন্নয়নের জন্য প্রধান হকার
ইউনিয়নের একাউন্টে ১০ কোটি টাকা সুদ বিহীন ঋণ প্রদান
করা হবে, ব্যাংকের মাধ্যমে হকারদের লোন প্রদান বা টেবিল তৈরি করার জন্য, প্রয়োজনে হকার
ইউনিয়ন চাইলে হকারদের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারবেন। তাছাড়া টেবিল তৈরিতে ব্যক্তি
বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক হকার ইউনিয়ন লোন নিতে পারে অথবা টেবিল প্রদানের শর্তে
তাদেরকে নির্দিষ্ট ভাড়া উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করতে পারে।
বর্তমান হকাররা জনকীর্ণ স্থানে শ্রুতিমধুর
কথার মাধ্যমে পণ্যকে লোভনীয় করে বিক্রয় করে। সস্তায় ভালো-মন্দ পণ্য বিক্রয় করে
মুনাফা অর্জন করে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুটিকয়েক হকার মন্দ পণ্য বা ভেজাল
খাদ্য বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রয় করে প্রতিনিয়ত মানুষ ঠকিয়ে চলেছে। হকারদের
নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা কর্তৃপক্ষের কাছে দায়বদ্ধতা না থাকায় কাস্টমার
পরবর্তীতে হকারকে খুঁজে পায় না বা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না। হকার
ইউনিয়ন বা কর্তৃপক্ষের কাছে হকারদের আইডেন্টিটি বা তথ্য না থাকায় এর দায়ভার
হকার ইউনিয়ন নেয় না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, গুটিকয়েক অসৎ
হকারদের মধ্যে অল্প বয়সী বালক থেকে যুবক দেখা যায়। অর্থাৎ এই বালক বা যুবক যে
পেশায় থাকুক না কেন, সে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তার মানুষ ঠকানোর এই অভ্যাসের
ফলে সমাজের প্রায় প্রত্যেককে ভোগান্তি পোহাতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন ঠকবাজ
বা নৈতিকতাহীন অসৎ মানুষ কখনোই দেশের মানুষের জন্য শান্তির কারণ হতে পারে না, বুঝে
না বুঝে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে, মানুষের সুখ কেড়ে নেয়। এমনকি তার পরিবার,
আত্মীয়-স্বজন ও কাছের মানুষও তার এই অভ্যাসের শিকার হয়।
অধিকাংশ হকার ব্যবসায়ী সততা, ন্যায়-নিষ্ঠা ও
বিশ্বস্ততার সঙ্গে ব্যবসা করার চেষ্টা করেন। মার্কেটের শপের সাথে হকার মার্কেট
তুলনা করলে সততার সাথে অধিক আয় করা সম্ভব, একজন হকার ব্যবসায়ী তার পণ্যের
বিক্রয় মূল্য থেকে শপের অ্যাডভান্স, শপের ভাড়া, ডেকোরেশন ইত্যাদি খরচ বাদ দিলে
ভালো মানের পণ্য শপের তুলনায় সস্তায় বিক্রয় করতে পারে। অর্থাৎ স্বল্প পুঁজিতে
অধিক আয় করতে পারবে। তেমনি যারা সস্তায় মানসম্মত পণ্য কিনতে চায় তারা নির্দিষ্ট
স্থানের এই হকার মার্কেটগুলোতে যাবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রেতার চাপ কিছুটা কম
হলেও কিছুদিনের মধ্যে একজন হকার বর্তমান থেকে বেশি ক্রেতাকে সেবা প্রদান করতে
পারবে।
নির্দিষ্ট স্থানে হকার মার্কেট, অনলাইনে
রেজিস্ট্রেশন ও হকার ইউনিয়নের সুপারিশে টেবিল বরাদ্দ দেওয়ার উদ্দেশ্য, গুটিকয়েক
হকারের কারণে যেন হকারদের পেশা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, হকারদের প্রতি যেন কাস্টমারের
বিরূপ মনোভাব যেন সৃষ্টি না হয়। যেহেতু কাস্টমার নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে হকারদের
থেকে পণ্য ক্রয় করবে সেহেতু হকারদের প্রতি কাস্টমারের পজিটিভ ধারণা থাকা অত্যান্ত
গুরুত্বপূর্ণ। নতুবা হকার মার্কেট ক্রেতা হারাবে। রাজধানী হকার মার্কেটসহ বিভিন্ন
হকার মার্কেট তুলনামূলক সস্তায় মানসম্মত পণ্য বিক্রয় করে এবং আচার-আচরণ বা ব্যবহারের
মাধ্যমে কাস্টমারের মন জয় করেছে। উচ্ছেদের ভয় না
থাকলে হকারদের সুশৃঙ্খলা বজায় থাকবে।
সুতরাং হকারদের যেমন গুরুত্ব অপরিসীম তেমন
তাদের সুসজ্জিত ও সুশৃংখল করা অবধারিত। ডিজাইনটিতে তাদের সকল অবস্থা বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিশ্বে এমন কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে
হকার নেই। পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি হকার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, ব্যাংককসহ সব
কয়টি দেশে হকার ব্যবস্থা আছে । তারা নির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতিমালা মেনে ব্যবসা করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও হকাররা নিয়মের মধ্যে ব্যবসা
করছে। থাইল্যান্ডে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফুটপাতের একাংশে হকার বসতে দেওয়া হয়।
নির্দিষ্ট সময়ের পরে নিজেরাই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে স্থানটি ঝাড়ু দিয়ে চলে
যায়। মালয়েশিয়ায় হকারদের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। ওই সীমার ভেতরেই
হকাররা ব্যবসা করে। কলকাতায় হকারদের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া আছে।
বাংলাদেশের হকারদের নিয়ে টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ছিল, সেটি করা হয়েছে তবে প্রাথমিক পর্যায়ে।
(হকার উচ্ছেদ করে
প্রাইভেট মোটরযান পার্কিং দৃষ্টিগোচর, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করবে)
গুলিস্তান রাজধানী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ
এলাকা। সচিবালয়, পুলিশের হেডকোয়ার্টার, নগর ভবন, জাতীয় মসজিদ সহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা
প্রতিষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র। পথচারীর আনাগোনায় মুখরিত গুলিস্তানসহ আশেপাশের সড়ক। এজন্য এখানে জমজমাট হকার ব্যবসায়
সড়ক ও ফুটপাত দখল হকারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তেমনই ক্রেতার যাতায়াত বা পথচারীর জন্য ফুটপাত অত্যন্ত
আবশ্যকীয়।
উভয়ের স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখে এবং যানবাহন
যাতায়াতের যথার্থ পথ
বিবেচনা করে গুলিস্তান সহ আশেপাশের বেসাল সড়কের হকারদের ৩টি স্থানের পুনর্বাসন
করা হয়েছে।
১. জনকীর্ণ এলাকার সন্নিকটে বেসাল সড়ক থেকে ৫০ মিটার ভিতরে ফুলবাড়িয়া থেকে ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত ২ লেনের ডাবল সড়কের ফ্লাইওভারের নিচে মিডিয়ান সংলগ্ন উভয় পাশে ১টি লেনে হকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উভয় পাশের ফুটপাত সংলগ্ন লেনে যানবাহন যাতায়াত করবে। তবে শর্ত থাকবে, ফুটপাতের কোনো চা-পানের দোকানও বসবে না। হকার মার্কেটে ক্রেতা যাতায়াতের জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ফায়ার সার্ভিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সেনসিটিভ সংস্থার জরুরী যাতায়াতে কোনো অসুবিধা
হবে না। বর্তমানে সড়কটির পরিবহন ও নগর বাস দিয়ে ব্লক থাকে, বছরে পর বছর এমনটি
হয়ে আসছে। সড়কটিতে একটি লেগুনা বা রিক্সা কোনোভাবে থেমে থেমে চলতে
পারে সড়কটি পার হতে কখনো ১৫ থেকে ২০ মিনিট লেগে যায়। বরং ডিজাইনে ফুটপাত সংলগ্ন
একটি লেন ফাঁকা থাকবে। ফুলবাড়িয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের সামনে দিয়ে শিক্ষা ভবন
হয়ে বাস রুট বাতিল করে বেসাল সড়কের হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তাছাড়া নগর ভবনের সামনে সড়ক বিকল্প সড়ক হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে এবং পুনর্বাসন সড়ক সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে
যাতায়াত ও পণ্য উঠাতে বা নামাতে কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
২. গুলিস্তান
পাতাল মার্কেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৩ লেনের ডাবল সড়কে জিরো পয়েন্টগামী বাম
পাশে ৩ লেনের সড়কে বেসাল সড়কের হকারদের পুনর্বাসন করা হবে। যানবাহনগুলো
ওয়ান ওয়ে সড়ক দিয়ে গোলাপশাহ মাজার হয়ে জিরো পয়েন্ট যাবে এর ফলে সচিবালের মতো
গুরুত্বপূর্ণ স্থানের যানজট অত্যন্ত কম হবে।
গোলাপশাহ মাজারগামী সড়ক ওয়ান ওয়ে
হওয়ার কারণে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। তাছাড়া পুনর্বাসন সড়ক সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ও পণ্য
উঠাতে বা নামাতে কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই এবং ডিজাইনটিতে বাসের টিকিট কাউন্টার বা স্টপেজ শহীদ মতিউর পার্কের
সামনে করা হয়েছে।
৩. পল্টন রোড থেকে বাইতুল মোকাররম মসজিদ
সংলগ্ন তিন লেনের লিংক রোডে বেসাল সড়কের হকারদের পুনর্বাসন করা হবে। বর্তমানে ঐ
সড়কে জিপিও, স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও কিছু কাস্টমারের সরকারি ও প্রাইভেট মোটরযান
পার্কিং করা হয়। পার্কিং
বিডি এর আওতায় গাড়ি পার্কিং করতে পারবে তাছাড়া পণ্য ওঠাতে-নামাতে বা দোকানে
যাতায়াতের জন্য কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
মতিঝিল সহ আশেপাশের এলাকার বেসাল সড়ক ও
ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসন,
বঙ্গভবন সংলগ্ন ৩ লেনের দিলকুশা সড়কের ২ লেনে হকার পুনর্বাসন করা হবে। বঙ্গভবনের ১০ ফুটের ওয়াল, তার উপর ৩ ফুট
কাঁটাতারের বেড়া, নিরাপত্তা চৌকিতো আছেই। আশা করি নিরাপত্তা রক্ষীরা দ্বিমত পোষণ
করবেন না।
এই সড়কটির বর্তমানে কিছু গাড়ি পার্কিং
এর জন্য ব্যবহার হয় টিকাটুলি থেকে গুলিস্তান যেতে বা মতিঝিল থেকে গুলিস্তান যেতে
এই সড়ক ব্যবহার হয় না । সড়কের নিকটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন গুটি কয়েক
প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল যাতায়াত করে। তাছাড়া বাইপাস বা বিকল্প সড়ক হিসেবে বক
চত্বর হয়ে যাতায়াতের করতে পারবে। ঐ সড়ক সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য উঠাতে বা নামাতে ও
যাতায়াত করতে কোনো সমস্যা হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। মতিঝিল সংলগ্ন বেসাল সড়ক থেকে ৫০ মিটার
ভিতরে এবং রাজউক সংলগ্ন বেসাল সড়কের ২০ মিটার ভিতরে হকার পুনর্বাসন করা হবে।
নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকার বেসাল সড়ক ও ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসন,
ভারতের কলকাতা
নিউমার্কেটের মতো ঢাকা নিউমার্কেট এত প্রসিদ্ধ না হলেও নিউমার্কেট সংলগ্ন হকারা প্রসিদ্ধ ও তাদের
ব্যবসা জমজমাট। এ হকারদের উচ্ছেদ না করে পুনর্বাস অত্যন্ত জরুরি। এজন্য বাটা
সিগনাল থেকে নিউমার্কেট রোড পর্যন্ত ৩ লেন সড়কের ২ লেনের হকার
পুনর্বাসন করা হবে। ঐ সড়ক সংলগ্ন
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্য উঠাতে বা
নামাতে ও যাতায়াতে কোনো সমস্যা
হওয়ার আশঙ্কা নেই।
তবে বাসাবাড়িতে ইনলেটের জন্য পর্যাপ্ত
জায়গা থাকবে এক লেন দিয়ে রিক্সা-সিএনজি সহজে যাতায়াত করতে পারবে। তবে হালকা মোটরযান
এর ক্ষেত্রে ওয়ান ওয়ে সড়ক বিবেচিত হবে। তাছাড়া বিকল্প
সড়কের ব্যবস্থা আছে, বাটা সিগন্যাল
থেকে সাইন্স ল্যাব হয়ে নিউমার্কেট কোনো সিগন্যাল ছাড়া খুব
সহজে যাওয়া যাবে।
যাত্রাবাড়ী সহ আশেপাশে এলাকার বেসাল
সড়ক ও ফুটপাতের হকারদের পুনর্বাসন,
৩ লেনের শহীদ ফারুক স্মরণি সড়কের ২ লেনে হকার পুনর্বাসন
করা হবে। শহীদ ফারুক স্মরণি সড়ক
সংলগ্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিবেচনা করে যাত্রাবাড়ীগামী ডান পাশের ১ লেনে হকার পুনর্বাসন করা হবে। ফুটপাতে কোনো পণ্য থাকবে না,
তবে ফুটপাতে কাস্টমার দাঁড়িয়ে পণ্য ক্রয় করতে পারবে। নির্দিষ্ট সময় শেষে টেবিলগুলো একত্রিত
করে রাখা হবে, ফলে সড়কের প্রস্তুত
বৃদ্ধি পাবে এবং সড়ক সংলগ্ন দোকানে সহজে পণ্য পরিবহন
যাতায়াত করতে পারবে। তাছাড়া
যাত্রাবাড়ী থেকে সায়দাবাদ হয়ে দয়াগঞ্জ আবার দয়াগঞ্জ থেকে ধুলাইপার হয়ে
যাত্রাবাড়ী বিকল্প সড়ক হিসেবে যাতায়াত করা যাবে।
এই সড়কে বাহাদুর শাহ মিনিবাস চলে,
বাসগুলি ট্রাফিক পুলিশ স্টেশন সংলগ্ন মাওয়া সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী নবাবে-উঠাবে। সায়দাবাদ
দিয়ে দয়াগঞ্জ রেল লাইনের নিচ দিয়ে সদরঘাট যাবে। ফেরার
সময় ধোলাইপাড় হয়ে ফিরবে। তাহলে সিগন্যাল ছাড়া যাতায়াত করতে পারবে। বর্তমানে ট্রান্সিল্ভা ও ৮ নং বাস এভবে চলে।
মোহাম্মদপুর ধানমন্ডিসহ আশেপাশের এলাকার
হকার পুনর্বাসন,
রেসিডেন্সিয়াল
স্কুল এন্ড কলেজের পেছন পাশে ২ লেনের ডাবল সড়কের কলেজ সংলগ্ন অংশের ২ লেনের সড়কে
হকার পুনর্বাসন করা হবে। তবে ফুটপাতে কোনো হকার বা পণ্য থাকবে না। বেসাল সড়ক থেকে
রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের দুই পাশের সড়ক দিয়ে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা
আছে। তাছাড়া হকার পুনর্বাসন সড়কের প্যারালের বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা আছে। তবুও
যেহেতু অমোটরযান ও হালকা মোটরযান চলাচল করবে সেহেতু ২ লেনের ২ ওয়ে সড়ক হতে পারে।
শ্যামলী,কাজীপাড়া সহ আশেপাশের এলাকার হকারদের পুনর্বাসন,
সরকারি আবাসিক
এলাকা সহ পাশে ও দূরের অনেক মানুষ এখানে নিরিবিলি অঞ্চলে বিকালে ঘুরতে আসে, পার্শ্ববর্তী
দোকানে ভিড় জমে যায়। এজন্য মুখরোচক
খাবারের পরসা সাজিয়ে বা বাচ্চাদের খেলনা বা প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে অফিস টাইমের
শেষ দিকে হকার ব্যবসা করতে পারে। সেক্ষেত্রে কল্যাণপুর, শেওড়াপাড়া এদিকের বেসাল
সড়কের হকারদের নির্দিষ্ট সময়ে নির্বিঘ্নে তাদের পণ্য বিক্রয় করতে পারে। এ
লক্ষ্যে, ডিজাইনে এই রোডের বাস রুট উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। সড়কটি দিনের বেলায়
কিছুটা ব্যস্ত থাকলেও রাতে যানবাহন চলাচল করে না বললেই চলে কিছু যানবাহন লিংক রোড
হিসাবে ব্যবহার করে। তবুও পর্যাপ্ত বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা আছে।
গুলশান,রামপুরাসহ আশেপাশের এলাকার সকল হকারদের পুনর্বাসন,
মালিবাগের থেকে
কুড়িল সড়কের কিছু অংশে ড্রেনের উপর খাজ কাটা ঢাকনা ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন সময় পথচারী বিশেষ করে
স্কুলের স্টুডেন্ট বিভিন্ন সময়ে আহত হয়েছে-হয়। তাছাড়া
রিক্সা-ভ্যান,সাইকেল,মোটরসাইকেল প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
হাঁটতে গিয়ে ড্রেনের মধ্যে পা ঢুকে বা ফুটপাথ থেকে নেমে দ্রুত বাস ধরতে গিয়ে
বেখেয়ালে পা ঢুকে অনেকে পঙ্গু হয়েছে এমন কথা শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের
কাছে এটি মরণফাঁদ নামে পরিচিত, বিশেষ করে রাতের বেলায়।
সুতরাং মরণফাঁদের উপর হকার ভ্যান বা টেবিল রাখলে পথচারী যেমন
মরণফাঁদ থেকে রেহাই পাবে তেমন হকারদের
দুটো রুটি-রুজির ব্যবস্থা হবে।
এ লক্ষে, ঐ
সড়কের কেবল মরণফাঁদ এর উপরে পণ্য রেখে নির্দিষ্ট স্থানে হকার ব্যবসা করতে পারবে।
ক্রেতা ফুটপাতের উপর দাঁড়িয়ে পণ্য কেনাকাটা করবে, কোনো অবস্থাতেই ক্রেতা সড়কে দাঁড়িয়ে
কেনাকাটা বা হকার ফুটপাতে পণ্য রাখতে পারবেনা। ব্যত্যয় হলে, ওই
হকারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে অন্য হকারকে সুযোগ দেওয়া হবে।
মিরপুর, উত্তরা
সহ আশেপাশের এলাকার বেসাল সড়কের হকারদের পুনর্বাসন,
উত্তরা পাকুরিয়া ৪ নং লেকের
পাশে খুবই স্বল্প ব্যস্ত সড়কে পুনর্বাসন করা হবে। কলকাতা কিছু ফুটপাতের হকারদের লেকের পানিতে নৌকা
ভাসিয়ে পণ্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। সেখানে লেকের পাশের সড়কে হকার ব্যবস্থা করা হয়েছে
তবে শর্ত থকবে, যার দোকান বরাবর লেকের ময়লা পাওয়া যাবে তাকে ৫ক টাকা অন্য সবাইকে
ক টাকা প্রদান করতে হবে। তবে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারলে ওই হকারের
রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে অন্য হকারকে সুযোগ দেওয়া হবে। উত্তরা-মিরপুরের নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের টানতে হকার
ব্যবস্থাকে সেভাবে সাজানো হবে।
হকার পুনর্বাসন সড়ক মেলার মতো আকর্ষণীয় পণ্যে সাজানো
হবে, বিভিন্ন দামে ভ্যারাইটি পণ্যের সমাহার থাকবে। কোনো কাস্টমার হকার মার্কেটে
গেলে দু’হাত ভরে পণ্য নিয়ে বাসায় ফিরবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাবলিসিটি হতে সময় লাগার
কারণে কাস্টমার কম হলেও কয়েক মাসের মধ্যে কাস্টমারে জমজমাট থাকবে।
বর্তমানে যত হকার ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করছে তার ওয়ান থেকে টু পার্সেন্ট হকার যদি হকার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে তবে বুঝতে হবে তারা ওই সকল মানুষ বা ওই সকল মানুষের থেকে স্বার্থ নিয়েছে যাদের সরকারের কোনো উন্নয়ন ভালো লাগেনা, দেশের উন্নয়ন চক্ষুশূল। সুতরাং তাদেরকে সেভাবেই ট্রিট করা হবে। তবে গণতন্ত্রের সূচকে ৫১% হকার এই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নতুন করে ভাবা হবে।